ইরানের হামলায় সৌদি আরবের তেল শোধনাগার বন্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার জেরে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ড্রোন হামলার পর এই পদক্ষেপ নেয় সৌদি আরামকো। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন এই শোধনাগার বন্ধ হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
কাতারে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত
ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে কাতারও। কাতারএনার্জির একটি স্থাপনায় আঘাত হানার পর দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বন্ধ করেছে। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে, যা এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের ৮২ শতাংশ গ্রাহকই এশিয়ার।
এছাড়া কুয়েতের আহমাদি তেল শোধনাগারে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে দুজন কর্মী আহত হয়েছেন। ইরাকের কুর্দিস্তানের তেলক্ষেত্র এবং ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। কাতারের দোহা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তেলের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম এক দিনের ব্যবধানে ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। বিশ্ববাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি কার্যত বন্ধ হওয়ায় বাজারে ইতিমধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি
বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। রিস্টাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োর্গে লেওন বলেন, ‘এ অবস্থা যত দিন চলতে থাকবে, তাতে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আমরা তেল ও গ্যাসের দাম তত বেশি বাড়তে দেখব।’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে দিনে এক কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা বিশ্বে দিনে মোট ব্যবহৃত তেলের ১০ শতাংশ।
ইরান কেন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করছে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্লেষক সাচা ব্রুচমান বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরি করার জন্যই ইরান এই হামলা চালাচ্ছে।
ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের টরবজর্ন সলটভেডট বলেন, ইরান তেলবাহী ট্যাংকার, আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্য পথ ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে, যা সামনে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
খাদ্য সরবরাহেও টান পড়ার শঙ্কা
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে দুবাই, দোহা, আবুধাবি ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহে টান পড়বে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরাং কেশাভারজিয়ান বলেন, এসব দেশ ফলমূল ও সবজির মতো মৌলিক পণ্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।
লন্ডনের কিংস কলেজের রব গেইস্ট পিনফোল্ড বলেন, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেছে নিয়েছে কারণ এগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু এবং তারা যুদ্ধের জন্য ততটা আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ত্যাগ করে ইসরায়েলকে রক্ষায় মনোযোগ দিয়েছে।
