ট্রাম্পের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি
ট্রাম্পের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্য

ট্রাম্পের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং এর পিছনে থাকা কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।

হামলার যৌক্তিকতা ও ট্রাম্পের বক্তব্য

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি ছিল। এই ভয়ংকর ও অশুভ শাসনের পক্ষ থেকে আসা অসহনীয় হুমকি নির্মূল করার এটাই ছিল আমাদের শেষ এবং সেরা সুযোগ।' তিনি আরও দাবি করেন যে এই হামলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবার সমর্থন ছিল, যা এই অভিযানকে বৈধতা দান করে।

হামলার প্রধান লক্ষ্যসমূহ

ট্রাম্প হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন:

  1. প্রথমত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা, যা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।
  2. দ্বিতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা; তিনি দাবি করেন যে ইতোমধ্যে ইরানের ১০টি জাহাজ ধ্বংস করে সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল করে দিয়েছে।
  3. তৃতীয়ত, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করা, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওবামা প্রশাসনের সমালোচনা ও চুক্তি প্রসঙ্গ

সাবেক বারাক ওবামা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, 'পূর্ববর্তী প্রশাসনের ভুলের কারণেই ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছে। আগের একটি চুক্তির মাধ্যমে তারা বৈধভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার পথে ছিল।' তিনি ওবামা প্রশাসনের সেই চুক্তিকে 'দেশ কর্তৃক গৃহীত একটি বোকামি' হিসেবে অভিহিত করেন, যা ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করেছিল বলে তার মন্তব্য।

চুক্তির বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ভেবেছিলাম একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, কিন্তু তারা বারবার পিছিয়ে গেছে। আমি তখনই বলেছিলাম যে এদের সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব নয়। আমাদের সঠিক পথেই এগোতে হবে।' তিনি ইরান সীমান্ত পেরিয়ে অন্য কোনো বাহিনীকে অর্থায়ন বা পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা জানান, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই যৌথ হামলা ও ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যেখানে ইরানের প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যদিও ট্রাম্পের ভাষণে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হয়েছে।