ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি: ইরানের ওপর 'বড় আক্রমণ' আসন্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে কঠোর আক্রমণাত্মক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে নয় মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানকে পিষে ফেলছে, তবে বড় ধরনের আক্রমণ এখনও শুরু হয়নি। ট্রাম্প বলেন, 'আমরা তাদের একদম ধ্বংস করে দিচ্ছি। আমি মনে করি সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। আমাদের কাছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং আমরা সেটি ব্যবহার করছি।'
চারটি প্রধান লক্ষ্য
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে মার্কিন অভিযানের চারটি প্রধান লক্ষ্য সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেন। এগুলো হলো:
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা
- দেশটির নৌ-ক্ষমতা পুরোপুরি মুছে ফেলা
- ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা
- ইরানের সীমানার বাইরে তাদের মদতপুষ্ট বাহিনীগুলোকে অর্থায়ন ও পরিচালনা বন্ধ নিশ্চিত করা
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের ১০টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এবং মজুদ ধ্বংস করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তিনি একে 'শেষ ও সেরা সুযোগ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, 'এই অসুস্থ ও অশুভ শাসনব্যবস্থার অসহনীয় হুমকি নির্মূল করতেই আমরা এটি করছি।'
ইরানি জনগণের নিরাপত্তা
ইরানি জনগণকে শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সামরিক অভিযানের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু করছে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প 'হ্যাঁ' সূচক উত্তর দেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এখনও তাদের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। আসল বড় আক্রমণ এখনও আসেনি। সেই বড় আঘাতটি শিগগিরই আসছে।'
এই বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন নীতির কঠোরতা এবং ভবিষ্যত আক্রমণের সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই অভিযান ইরানের হুমকি মোকাবেলায় একটি অত্যাবশ্যক পদক্ষেপ। মার্কিন বাহিনীর শক্তি এবং দক্ষতার উপর তার আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন যে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে চলছে।



