ইরানের কঠোর হুশিয়ারি: আগ্রাসন বন্ধ না হলে হামলা অব্যাহত থাকবে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হলে হামলা চলবে বলে জাতিসংঘকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে তেহরান থেকে এই মর্মে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সকল ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে থাকবে।
আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে ইরান
একই চিঠিতে ইরান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আত্মরক্ষার্থে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ
এদিকে, শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনালাপ করেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেয়াবিত এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফোনালাপে দু’জন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানান। ক্যারোলিন আরও উল্লেখ করেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের সঙ্গে মার-আ-লাগোতে রাতভর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। আক্রমণের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও কংগ্রেসকে বিষয়টি জানান। ‘গ্যাং অব এইট’ এর সকল সদস্যকে ফোন করেন এবং তিনি আট সদস্যের মধ্যে সাতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ব্রিফ করতে সক্ষম হন।”
হামলার পটভূমি ও পরিকল্পনা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে ইরানের ওপর চালানো হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে করা হয়েছিলো বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তার মতে, হামলার জন্য এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল যেখানে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন। হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলের ওই কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের সমাবেশ চলছিলো এমন তিনটি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।”
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫, তেজস্ক্রিয় প্রভাব নেই
ইরানের উত্তরাঞ্চলের শহর মিনাবে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ তে দাঁড়িয়েছে। তবে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কোনও তেজস্ক্রিয় প্রভাব শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও যোগাযোগের অভাব
হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি আমেরিকা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে তারা জানে কীভাবে করতে হবে। ইরান উত্তেজনা প্রশমনে প্রস্তুত। তবে, তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হতে হবে।” আজকের হামলাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে আরাঘচি দৃঢ়ভাবে জানান, “ইরান নিজের আত্মরক্ষা করতে সক্ষম।”
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভা
মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের মধ্যেই বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভা। ফ্রান্সের আহ্বানে এ সভা ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিয়ে আলোচনা হবে এবং সম্ভাব্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হতে পারে।
