ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হতাশা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হতাশা

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হতাশা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওয়াশিংটন-তেহরানের পরমাণু ইস্যুতে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী বদর আল বুসাইদি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে চলমান সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংঘাতের পটভূমি ও হামলার বিবরণ

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলাকালেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েল হামলা শুরু করে। মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জবাবে কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো টার্গেট করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো:

  • কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি
  • কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি
  • সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটি
  • বাহরাইনের পঞ্চম মার্কিন ঘাঁটি

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও আহ্বান

তীব্র সংঘাতের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আল বুসাইদি বলেন, আজকের হামলায় তিনি ‘হতাশ’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সক্রিয় এবং আন্তরিক আলোচনা আবারও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্য কোনোটিই ভালোভাবে কাজে আসবে না। এবং আমি নিরপরাধদের জন্য প্রার্থনা করছি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’ যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত হওয়ার অনুরোধ করছি। এটি তোমাদের যুদ্ধ নয়।’

পরমাণু আলোচনার বর্তমান অবস্থা

ইরান পরমাণু ইস্যুতে ওমানের মধ্যস্থতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা এবং গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসেন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা। আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আবারও পরোক্ষ আলোচনায় বসার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমান সংঘাতের কারণে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে পরমাণু আলোচনা সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যেতে পারে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।