ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু বলে জানা গেছে।
হরমুজগান প্রদেশে ভয়াবহ হামলা
দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই হামলায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে তা বেড়ে ৫৩ জনে পৌঁছায়।
হরমুজগান মেডিকেলের প্রধান ডাক্তার জানিয়েছেন, প্রদেশটির মিনাব ও জাসেক এলাকায় ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পৃথক হামলায় এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
তেহরানেও হামলা
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী তেহরানে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় কমপক্ষে তিনজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
হরমুজগান প্রদেশের দুইটি পৃথক স্থানে মার্কিন আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা ৭০ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন ব্যক্তি।
আহতদের অবস্থা গুরুতর
চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, হতাহতের এই সমস্ত তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি চেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই হামলার ঘটনায় রাশিয়া ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে বেপরোয়া বলে অভিহিত করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই হামলাকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের সরকার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে।
