হরমুজ প্রণালী অচল হওয়ার পথে, তেলের বাজারে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৩ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইলি ভূখণ্ড এবং মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা
তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করেছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে। ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে সংঘটিত এই হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় তেল পরিবহণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ধীরে ধীরে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় সকল বড় তেল ও বাণিজ্যিক কোম্পানি এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে তাদের নৌযান চলাচল স্থগিত করেছে। একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন বর্তমান অবস্থানেই স্থির থাকবে।'
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি
আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহণ করা হয়।
এছাড়া এই প্রণালী গ্যাস সরবরাহেরও মূল পথ হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান মাধ্যম।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ তেল করিডোরে পরিবহণ বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে।তেলের দামে ইতোমধ্যে প্রভাব
হামলার আশঙ্কায় শুক্রবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭২.৪৮ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ৬৭.০২ ডলারে স্থিতিশীল হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দাম আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞ এমনকি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে যদি পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। এই সংকট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যে ঝুঁকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিতে চাইবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
