ইসরাইলের হামলার পর ১৫ দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ, ট্রাম্পের অসন্তুষ্টি কারণ
ইসরাইলের হামলার পর ১৫ দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ

ইসরাইলের হামলার পর ১৫ দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের জরুরি নির্দেশ

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে এক জরুরি বিবৃতিতে দাবি করেছে যে তারা ইরানে 'প্রতিরোধমূলক হামলা' শুরু করেছে। এই হামলা শুরু হওয়ার পরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ পুরো দেশজুড়ে 'বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছেন।

নাগরিকদের নিরাপত্তায় ১৫ দেশের পদক্ষেপ

ইসরাইলের এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীনসহ ১৫টিরও বেশি দেশ নিজেদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এই দেশগুলো ইরানে ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কতাও জারি করেছে।

দেশগুলোর এই পদক্ষেপের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুক্রবারের একটি মন্তব্য। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ দফা সংলাপ হয়েছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

ট্রাম্পের অসন্তুষ্টি এবং সংলাপের ফলাফল

গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পঞ্চম দফা সংলাপ শেষ হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সমাপ্তি ঘটেছে। সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ৫ দফা সংলাপের পর যে ফলাফল এসেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়ে সমঝোতা হলেও ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে সংলাপ। ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির মূল কারণ এটাই।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি

জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা এবং ইসরাইলে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যে কোনো সময় হামলা হতে পারে ইরানে

শুক্রবার ট্রাম্পের মন্তব্যের পর থেকেই বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানানো শুরু করে। ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার পর এই আহ্বান আরও জোরদার হয়েছে।

ইসরাইলের জরুরি অবস্থা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি

ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ পুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ এবং ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বানও জানানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে।