ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ
ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ইসরায়েলের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ইরানে লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
হামলার স্থান ও প্রভাব
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জমহুরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের সংখ্যা কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসরায়েলের ব্যাখ্যা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার বিষয়ে বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হুমকি রুখতে এবং আগেভাগেই বিপদ ‘নির্মূল’ করতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই অভিযান প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এদিকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
হামলা ও পাল্টা হামলার উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ধরনের বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে বিমানবন্দরে না আসার জন্য জরুরি অনুরোধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি যাত্রী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, দেশটির সামরিক বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে এবং সম্ভাব্য আরও হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনা ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়।
