গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ৬ জনের মৃত্যু, পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্যবস্তু
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মধ্যভাগের বুরেজ শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকায় পুলিশি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
নাসের হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আল-মাওয়াসিতে অবস্থিত একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলায় চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বুরেজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশপথে সংঘটিত আরেকটি হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
হামাসের প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা
হামাস সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই শর্ত লঙ্ঘন করছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এ হামলাকে গণহত্যামূলক যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদকের বিশ্লেষণ
আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজুম উল্লেখ করেছেন, গাজায় আইনশৃঙ্খলা বা জনজীবন পুনর্গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইসরাইল।
মানবিক সংকট ও ত্রাণ কার্যক্রমের হুমকি
এছাড়া, ইসরাইল আগামী ১ মার্চের মধ্যে ৩৭টি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এ নির্দেশ পালন করা হলে কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং মানবিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে, এই সংকটে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গাজার সাধারণ মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
সীমান্তে সাহায্য প্রবাহের ঘাটতি
গত বৃহস্পতিবার রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ২৮৬টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ১১২টি ছিল ত্রাণবাহী। তবে গাজায় দৈনিক অন্তত ৬০০ ট্রাক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
গাজার সীমান্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে মাত্র কিছু সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হতে পেরেছেন।
