পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই ঘোষণা দেন।
প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা
আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে খাজা মোহাম্মদ আসিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।’ এই ঘোষণার পরপরই কাবুল ও কান্দাহারে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হামলার বিস্তারিত
আল-জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আজ স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে কাবুলে পাকিস্তানি বাহিনী বোমা ফেলেছে। পরে আবারও বোমা ফেলা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও চূড়ান্ত।’
পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ
গতকাল আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালায়। এতে দুই সেনা নিহত হওয়ার খবর জানায় ইসলামাবাদ। এর পরপরই কাবুল ও কান্দাহারে হামলা চালায় পাকিস্তান। এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। এতে ১৩ বেসামরিক মানুষ নিহত হন বলে জানিয়েছিল আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন।
মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক
মৃত্যু নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের পৃথক দাবি রয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কাবুল ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল। ওই হামলার পর গতকাল ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ চালানোর কথা জানান তালেবান সরকারের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদি। এর পরই কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো এই উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই অঞ্চলের দিকে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
