গাজায় রমজানের প্রথম দিনে ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি যুবক নিহত
পবিত্র রমজান মাসের উদ্বোধনী দিনে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক ফিলিস্তিনি যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে, যেখানে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আনাদোলু বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই হামলা সংঘটিত হয়।
হামলার বিস্তারিত ও নিহতের পরিচয়
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পূর্বাঞ্চলের বানি সুহেইলা মোড়ের কাছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে মুহান্নাদ আল নাজ্জার নামে এক যুবক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, ভোর থেকেই পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ভারী গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তরে একটি এলাকায়ও গুলি চালানো হয়। এছাড়াও, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাংশে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যান্য এলাকায় হামলা ও তাৎক্ষণিক প্রভাব
গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলেও ইসরাইলি যানবাহন থেকে পূর্ব বেইত লাহিয়ার দিকে গুলি ছোড়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকার আল সিক্কা সড়কের আশপাশেও কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে, এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা এলাকায় উত্তেজনা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও শতাধিক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৬১৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
এই হামলাগুলো রমজানের পবিত্র সময়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গাজার বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই রমজানকে স্বাগত জানালেও, নিরাপত্তাহীনতা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে।
