ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে জেনেভা আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে। জেনেভায় দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরুর আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় ধরনের অগ্রগতির আশা এখনও কম। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কির সমঝোতা বিষয়ে সতর্কতা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশকে বারবার সমঝোতার আহ্বান জানানো ‘ন্যায্য নয়’। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে বিজয় উপহার দিয়ে শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে আলোচনা সফল করা ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করছে, যদিও তিনি রাশিয়ার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।
রাশিয়ার ভূখণ্ড দাবি ও ইউক্রেনের শর্ত
রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে সর্বোচ্চ দাবি থেকে সরে আসেনি। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে, যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ডনবাসের বড় অংশ রয়েছে। মস্কো পুরো অঞ্চল নিজেদের হাতে দিতে বললেও কিয়েভ তা নাকচ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, যেকোনো সমঝোতার আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
আলোচনার বিস্তারিত ও অংশগ্রহণকারী
প্রথম দিনের আলোচনা শেষে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ বলেন, বৈঠকে সম্ভাব্য সমাধানের বাস্তব দিক ও কৌশল নিয়ে কথা হয়েছে। পরে ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেন হামলা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চায় না, বরং নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় লড়ছে এবং সম্মানজনক সমঝোতার দিকে দ্রুত এগোতে প্রস্তুত।
এটি তিন পক্ষের তৃতীয় দফা আলোচনা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টাব্যাপী প্রথম দিনের বৈঠক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল এবং দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় বিভিন্ন পর্যায়ে হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন উইটকফ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার। রাশিয়ার পক্ষে প্রধান আলোচক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহকারী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক সংঘাত
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর এক সপ্তাহ আগে এই আলোচনা হচ্ছে। এদিকে বুধবার ভোরে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ও ক্রিমিয়ায় ৪৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ১২৬টি ড্রোন হামলা চালায়, যার মধ্যে প্রায় ১০০টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
এই আলোচনা ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য সমাধানের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে দাবি ও শর্তের পার্থক্য এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শান্তি প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
