ইরান-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া শুরু, হরমুজ প্রণালি বন্ধ; মার্কিন রণতরির বিরুদ্ধে খামেনির হুঁশিয়ারি
ইরান-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া, হরমুজ প্রণালি বন্ধ

ইরান-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া: ওমান সাগরে শুরু হচ্ছে সামরিক কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে ইরান ও রাশিয়া বৃহস্পতিবার ওমান সাগরে যৌথ নৌ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসৌদলু বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো সমুদ্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা। তবে মহড়াটি কত দিন ধরে চলবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে কয়েক ঘণ্টা

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহড়া চলার সময় নিরাপত্তা স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর গুরুত্ব অপরিসীম। গত সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর হরমুজ প্রণালিতে একটি পৃথক মহড়া চালিয়েছিল, যা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলোচনার পরই সামরিক মহড়া

এই যৌথ মহড়ার ঘোষণা এসেছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পরপরই। মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যস্থতা করেছিল ওমান। এর আগে ওমানের রাজধানী মাসকাটে প্রথম ধাপের আলোচনা হয়েছিল। ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও গত বছর জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তা থেমে যায়। ওই সংঘাতের সময় ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও।

খামেনির মার্কিন রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরিগুলো ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে। খামেনি দাবি করেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না। তার এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে।

মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও উত্তেজনা

গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান-রাশিয়ার যৌথ মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের সামরিক মহড়াগুলোকে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।