সৌদি আরবে ওমরাহ শেষে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের এক দম্পতি ও দুই মেয়েসহ ৫ জন নিহত
সৌদি আরবের আবহা এলাকায় ওমরাহ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে এক মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরার পাঁচমুখি এলাকার এক দম্পতি ও তাদের দুই মেয়েসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় সময় প্রায় ৯টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ভাটরার পাঁচমুখি এলাকার মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি, তাদের দেড় বছরের শিশু কন্যা সুবাহ আক্তার ও বড় মেয়ে মোহনা আক্তার এবং গাড়ি চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী। এ ছাড়া পরিবারের আরেক মেয়ে ফাইজা আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসা করছেন। চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি ও তিন মেয়ে মোহনা, ফাইজা ও সুবাহ পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। ওমরাহ শেষে বাসায় ফেরার পথে আবহা এলাকায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মিজানুর রহমানের মা খুকি বেগম ও বাবা শহিদ উল্লাহ বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। নিহতদের বড় ভাই বাহারুল আলম, যিনি স্থানীয় টিউরী বাজারের ব্যবসায়ী, তিনি পরিবারের এই দুর্দশার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরেছি। লাশ দেশে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে সার্বিক সহযোগিতা করবো।" এদিকে, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম জানান, "বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরে বসবাসরত নিহতদের স্বজনরা এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা না গেলেও, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।



