সিরিয়া থেকে ৫,৭০০ আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে সিরিয়া থেকে ৫,৭০০-এর বেশি সন্দেহভাজন আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে। ২৩ দিনব্যাপী এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের আইএস যোদ্ধাদের সিরিয়ার আটক কেন্দ্র থেকে ইরাকি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক কমান্ড নিশ্চিত করেছে।
অভিযানের সময়সীমা ও বিবরণ
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, এই অভিযানটি শুরু হয়েছিল ২১ জানুয়ারি এবং শেষ হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ইরাকে একটি রাতের ফ্লাইটের মাধ্যমে অভিযানটি সম্পন্ন হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল আইএস বন্দিদের নিরাপদে আটক রাখা নিশ্চিত করা। মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার আটক কেন্দ্রগুলো থেকে ৫,৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আইএস যোদ্ধাকে নিরাপদে ইরাকি হেফাজতে স্থানান্তর করেছে।
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম এই তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার খবরে এই বিবৃতির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা হয়েছে।
বন্দিদের পটভূমি ও জাতীয়তা
দীর্ঘদিন ধরে এসব বন্দি কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) পরিচালিত কারাগারে আটক ছিলেন। তবে সম্প্রতি সময়ে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা পুনর্দখল করলে বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। সম্ভাব্য কারাগার ভাঙার ঝুঁকি এড়াতেই তাদের ইরাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো-অপারেশন (এনসিআইজেসি) জানিয়েছে, ৫,৭০৪ জন আইএসআইএল বন্দি ইরাকে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে:
- ৩,৫৪৩ জন সিরিয়ান নাগরিক
- ৪৬৭ জন ইরাকি নাগরিক
- ৭১০ জন অন্যান্য আরব দেশের নাগরিক
- ৯৮০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক (ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের)
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-হোল শিবিরে আইএস যোদ্ধাদের স্বজনদের রাখা হতো। সম্প্রতি পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সেখান থেকে অধিকাংশ বিদেশি পরিবার চলে গেছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব বন্দির ভবিষ্যৎ ও তাদের বিচার প্রক্রিয়া এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, আইএস ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় ইরাক ২০১৭ সালে এবং এসডিএফ ২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে পরাজিত করে। এরপর হাজার হাজার সন্দেহভাজন যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে বিভিন্ন কারাগার ও শিবিরে রাখা হয়েছে।
বর্তমান স্থানান্তর কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চিন্তাভাবনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি কারাগারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে এই পদক্ষেপ বন্দিদের যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
