জেলেনস্কির অভিযোগ: শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইউক্রেনের কাছেই ছাড় চায়
জেলেনস্কির অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইউক্রেনের কাছেই ছাড় চায়

শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জেলেনস্কির তীব্র অভিযোগ

শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইউক্রেনের কাছেই ছাড় চাইছে, কিন্তু রাশিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই অভিযোগের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেনেভা বৈঠকের প্রস্তুতি ও জেলেনস্কির আশঙ্কা

ভাষণে জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে। তিনি এই বৈঠকটি অর্থবহ ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করলেও আলোচনার ধরণ নিয়ে তার স্পষ্ট অসন্তোষ রয়েছে। তিনি বলেছেন, "আমরা চাই বৈঠকগুলো বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ হোক। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, পক্ষগুলো একেবারেই ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।"

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন, আমেরিকান আলোচকরা প্রায়ই ছাড়ের বিষয় তোলেন, কিন্তু তা শুধু ইউক্রেনের জন্যই হয়, রাশিয়ার জন্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানতে চেয়েছেন, মস্কো কী ধরনের আপস করতে প্রস্তুত, কারণ ইউক্রেন ইতিমধ্যেই অনেক ছাড় দিয়েছে। তার মতে, এই অসামঞ্জস্য আলোচনার গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি ও ইউক্রেনের দাবি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্রদের উচিত রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং কিয়েভকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করা, যাতে মস্কোকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, "যেকোনও শান্তিচুক্তির আগে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি জরুরি, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন এবং যুদ্ধবন্দি বিনিময়ও প্রয়োজন।"

জেলেনস্কি দোনেৎস্ক এলাকা নিয়ে মার্কিন আলোচকদের একটি প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন আলোচকরা বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী যদি দোনেৎস্ক এলাকা থেকে সরে যায়, রাশিয়া দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারবে। তবে জেলেনস্কি দোনেৎস্কে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে রাজি এবং ফ্রন্টলাইন স্থিতিশীল রাখার কথা বলেছেন।

ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে জেলেনস্কির সমালোচনা

ইউক্রেনের নেতা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপকে আলোচনার টেবিলে কার্যত পাশ কাটিয়ে রাখা হয়েছে। তার মতে, ইউরোপ প্রায় উপস্থিতই নেই, যা একটি বড় ভুল। তিনি বিশ্বাস করেন, ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও ডনবাসের অংশ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির এই ভাষণ শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইউক্রেন শান্তি চাইলেও রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তার গভীর সন্দেহ রয়েছে।