জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি চলাকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তেহরানের ওপর কঠিন শর্ত আরোপ করেছেন।
নেতানিয়াহুর কঠোর দাবিসমূহ
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মেজর আমেরিকান ইহুদি সংস্থাগুলোর বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির জন্য ইরানকে তার সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়াও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সমস্ত অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ধ্বংস করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, শুধুমাত্র সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতাই সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুটির সমাধান যেকোনো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার আহ্বান
নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার সপ্তম বৈঠকের পর এই প্রথম তিনি জনসমক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
যদিও ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তবে নেতানিয়াহু এমন কোনো 'ভালো চুক্তি' হওয়া সম্ভব কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অর্থনৈতিক চাপ ও আলোচনার অবস্থান
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশেষ করে চীনের কাছে তাদের তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে এই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে নারাজ।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইরানের সরকার পরিবর্তনের বিষয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন পুরো অঞ্চলকে এক বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কায় নিমজ্জিত করেছে।
নেতানিয়াহুর এই কঠোর শর্তাবলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জেনেভায় আলোচনা কীভাবে এগোবে এবং ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা এখন সবার নজরে।
