ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে আটক, দুর্নীতির অভিযোগে পালানোর চেষ্টা
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীকে আটক, দুর্নীতির অভিযোগ

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে আটক

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে একটি ট্রেন থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি দেশ ছাড়তে চাইছিলেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গালুশচেঙ্কোকে রবিবার আটক করা হয় যখন তিনি স্টেট সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগ ও পদত্যাগ

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে গালুশচেঙ্কোকে ইউক্রেনের মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়। গত নভেম্বরে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। এই কেলেঙ্কারি জেলেনস্কির প্রশাসনকে হুমকিতে ফেলে, যিনি দুর্নীতির উৎখাতের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন।

গালুশচেঙ্কো তিন বছর জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে স্বল্প সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া সেভিতলানা হারয়েনচুকও কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পরে পদত্যাগ করেন।

অভিযান ও অনুসন্ধান

এই কেলেঙ্কারির পর জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রিয়ে ইয়েমাকের বাসায় অভিযান চালানো হয়, এবং ইয়েমাক পদত্যাগ করেন। তবে, জেলেনস্কি বা ইয়েমাকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠেনি। ইউক্রেনের অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (নাবু) এবং স্পেশালাইজড অ্যান্টি করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপি) যৌথভাবে ‘অপারেশন মিদাস’ নামে একটি অনুসন্ধান চালায়।

দীর্ঘ ১৫ মাসের অনুসন্ধানের পর উঠে আসে যে, গালুশচেঙ্কোসহ কয়েকজন অভিযুক্তরা জ্বালানি খাতে সহ অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশল রচনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা পরিকল্পিতভাবে কনট্রাক্টরদের কাছ থেকে প্রকল্পের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নিতেন। এই ঘুষের অর্থ বিভিন্ন দেশে, যার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে, পাচার করা হয়েছে বলে নাবু ও এসএপি জানিয়েছে।

আটকের বিস্তারিত ও প্রভাব

নাবু গালুশচেঙ্কোর আটক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেয়নি, তবে বলেছে যে সময়মতো আপডেট দেওয়া হবে। রেডিও ফ্রি ইউরোপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিয়েভে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে, কিয়েভ সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে গালুশচেঙ্কোর পালানো নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

বিবিসি বলছে, এই কেলেঙ্কারির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ বেড়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, যা দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বৈধ।

গালুশচেঙ্কো আগে নিজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। এদিকে, গত নভেম্বরে ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি চের্নশোভকেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যদিও পরে তার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ উঠা ব্যবসায়ী তিমুর মিন্দিচ ইউক্রেন ছেড়েছেন, যিনি জেলেনস্কি যে সম্প্রচার মাধ্যমে কাজ করতেন সেই স্টেশনে অন্যতম মালিক ছিলেন।