ইরানে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে 'সবচেয়ে ভালো উপায়' বলে উল্লেখ করেছেন। গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামরিক চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তিনি ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ট খুব শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেবে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, 'আমরা যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে না পারি, তবে আমাদের এই সামরিক পদক্ষেপেরই প্রয়োজন পড়বে।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিষয়ে অস্পষ্টতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জায়গায় কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি শুধু এতটুকুই বলেছেন যে, 'এমন মানুষ আছেন যারা এই দায়িত্ব নিতে পারেন।' এর আগে, ইরানে সরকার পরিবর্তনের জোরালো আহ্বান থেকে ট্রাম্প কিছুটা সরে আসতে দেখা গিয়েছিল, যখন তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে এমন পদক্ষেপে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
ইরানে বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গত মাসে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা দমনে কঠোর অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন ইরানে মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায় এবং ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন সাধারণ ইরানিদের ওপর বিশাল আঘাত হানে।
এখন বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমে এলেও ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। নির্বাসিত রেজা পাহলভি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে মানবিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারমাণবিক ইস্যু
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবু গত সপ্তাহে তারা ওমানে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠক করেছে, যদিও নতুন করে আলোচনার তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে, তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি
ইরানে কয়েক সপ্তাহ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন। তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই হামলা শুরু হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগে দেখা যেকোনো সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশলের অভিযোগ
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটনই কৌশল করে ইরানে ডলারের ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে রাতারাতি ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন হয়। এই আর্থিক সংকটই গত বছরের ডিসেম্বরে তেহরানে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছিল, যা পরে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
