ইরানের শাহপুত্র পাহলভির আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে ত্বরান্বিত হবে সরকার পতন
ইরানের শাহপুত্র পাহলভির আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ চান

ইরানের শাহপুত্র পাহলভির যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান

ইরানের সর্বশেষ শাহের পুত্র ও নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এতে প্রাণহানি কমতে পারে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত হতে পারে। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করারও আহ্বান জানান। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকার

জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে পাহলভি দাবি করেন, ইরানের সরকার ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এই প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে পারে। তিনি বলেন, "এতে জনগণ আবার রাস্তায় নেমে এসে সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করতে পারবে।" ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তাঁর পিতা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ছোট একটি বিক্ষোভ থেকে শুরু হয়ে এই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে সহিংস অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ইরানের বিরোধী শিবির বিভিন্ন মতাদর্শিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং দেশের ভেতরে তাদের সংগঠিত উপস্থিতি সীমিত। গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতরে পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং সামনে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক আলোচনায় ইরান কঠিন অবস্থান নিয়েছে এবং অচলাবস্থা কাটাতে তেহরানকে ভয় দেখানো প্রয়োজন হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিস্থিতিতে পাহলভির আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তবে পাহলভি দাবি করছেন যে এটি দ্রুত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।