নাইজেরিয়ায় আকাশে বিমানের ইঞ্জিন বিস্ফোরণ, চালকের দক্ষতায় নিরাপদে জরুরি অবতরণ
নাইজেরিয়ায় বিমানের ইঞ্জিন বিস্ফোরণ, নিরাপদ অবতরণ

নাইজেরিয়ায় আকাশে বিমানের ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ, চালকের দক্ষতায় রক্ষা পেলেন ৮০ যাত্রী

নাইজেরিয়ার আকাশে একটি যাত্রীবাহী বিমানের ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তবে চালকের দ্রুত সাড়া ও দক্ষতায় সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাটি ঘটে, যখন বিমানটি লাগোস থেকে পোর্ট হারকোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৪ মিনিটে নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর লাগোসের মুরতালা মুহাম্মেদ বিমানবন্দর থেকে এরিকা এয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭-৭০০ বিমান উড্ডয়ন করে। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র কিছুক্ষণ পরেই বিমানের একটি ইঞ্জিনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় বিমানটি প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল, যা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বিমানটিতে চালক ও ক্রুসহ মোট ৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ইঞ্জিন বিস্ফোরণের পর চালক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ বেনিনের একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে তিনি সফলভাবে বিমানটি অবতরণ করান, যাতে কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

পরবর্তী তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া

বেনিনের বিমানবন্দরের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে যে, বিমানের ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনের কয়েকটি ব্লেড ভেঙে যাওয়ায় ইঞ্জিনের ইন্টেক নষ্ট হয়ে গেছে। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে ব্লেড ভাঙার সঠিক কারণ এখনও অজানা রয়ে গেছে।

এরিকা এয়ার এই ঘটনায় যাত্রীসাধারণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং নাইজেরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিমান পরিষেবার গুণমান নিয়ে। যদিও চালকের দক্ষতা ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে, তবুও বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞরা।