ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জটিল পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু

দুই মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা আগের যেকোনও সামরিক অভিযানের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিস্তৃত। দীর্ঘমেয়াদি এই অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে। তবে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য ও সময়সূচি সম্পর্কে তারা কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, এমন অভিযান শুরু হলে তা দুই দেশের মধ্যে আগের যেকোনও সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও উল্লেখ করেছেন, পেন্টাগন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজারো অতিরিক্র সেনা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ নানা সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।

পাল্টা হামলা ও কূটনৈতিক প্রভাব

এক কর্মকর্তা মার্কিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ধারণা করছে যে ইরান পাল্টা জবাব দেবে, যার ফলে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিশোধমূলক হামলা বা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

শুক্রবার উত্তর ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও ভয় দেখানোই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায় হয়ে দাড়ায়। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, “ইরান বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব বিকল্পই খোলা আছে।” তিনি আরও বলেছেন, “ট্রাম্প বিভিন্ন মতামত শোনেন, তবে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।” এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনও মন্তব্য করেনি।

কূটনৈতিক আলোচনা ও পারমাণবিক কর্মসূচি

এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ওমানে উভয় দেশের কূটনীতিকরা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গোপন আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব তারা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির এই খবর কূটনৈতিক আলোচনার গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে অথবা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, এবং সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল।