ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় তিনজন নিহত, মাদক পাচারের অভিযোগে আক্রমণ তীব্র
ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই হামলাটি গতকাল শুক্রবার পরিচালিত হয়েছে বলে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড নিশ্চিত করেছে। নৌযানটিতে মাদক বহন করা হচ্ছিল বলে সন্দেহের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী এই প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ও মানবাধিকার উদ্বেগ
'মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান' নামে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একের পর এক হামলা চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে এসব হামলায় অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, আক্রান্তদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ থাকলেও এসব হামলা বিচারবহির্ভূত মৃত্যুদণ্ডের সমান এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
হামলার পরিসংখ্যান ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ
বিভিন্ন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চল ও ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ পর্যন্ত ৩৯টি নৌযানে অন্তত ৩৭টি হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহের শুরুর দিকে এমন একটি হামলায় দুজন নিহত হন। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্যারিবীয় সাগরে রণতরি মোতায়েন করে রেখেছে ওয়াশিংটন, যা এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
লাতিন আমেরিকায় মার্কিন কৌশল ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ক্রমাগত বাড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদক পাচার দমনের নামে এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে মার্কিন নীতির পরিবর্তন না হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
