ইরানে সরকার পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট বার্তা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে সরকার পতন হবে সবচেয়ে ভালো ঘটনা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
৪৭ বছরের নিষ্ফল আলোচনার সমালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৪৭ বছরের নিষ্ফল আলোচনার পর, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন আদর্শ ঘটনা হবে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই হবে সবচেয়ে ভালো জিনিস- যা ঘটতে পারে। ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু আলোচনা করছে, কথা বলে যাচ্ছে, কথা বলছে। তাদের আলোচনার মধ্যেই আমরা অনেককে হারিয়েছি। কারও পা উড়ে গেছে, হাত উড়ে গেছে, মুখ উড়ে গেছে।"
এ ছাড়া তিনি বলেছেন, "তারা সঠিক চুক্তি করলে আমরা সেটা (হামলা) করব না- কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে, তারা তা করেনি। তারা কথা বলতে চায় - কিন্তু এখন পর্যন্ত অনেক কথা বলে তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আমি যদি একবার চুক্তিটি করতে পারি তাহলে এটা সবার জন্যই ভাল হবে।"
সরকার পরিবর্তনের পর দায়িত্ব প্রশ্নে মন্তব্য
ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে কে দায়িত্ব নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "আমি এনিয়ে কথা বলতে চাইনা, এর জন্য মানুষ আছে।" এটি ইরানের ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে তার অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন
অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি আরও বলেছেন, দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। এটি আগে থেকে আরব সাগরে অবস্থানরত আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরীর সঙ্গে যুক্ত হবে।
দ্বিতীয় রণতরীর মোতায়েনের ঘোষণা এমন এক সময়ে আসলো যখন ওমানে ও অন্যান্য মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে, তবে তা কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা
এদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং সামরিক পদক্ষেপ ইরান-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয় তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখছেন।
