মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। এই রণতরীটি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে অবস্থানরত আব্রাহাম লিঙ্কন রণতরীর সঙ্গে যুক্ত হবে, যা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে।
পারমাণবিক আলোচনায় চাপ বাড়ানোর কৌশল
এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে চলমান আলোচনায় চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি খুব শিগগিরই যাবে। যদি আমরা কোনো চুক্তি করতে না পারি, তাহলে আমাদের এটি প্রয়োজন হবে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, পারমাণবিক বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে।
আলোচনা ও হুঁশিয়ারির দ্বৈত বার্তা
দ্বিতীয় রণতরীর মোতায়েনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ওমানে ও অন্যান্য মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে, তবে তা এখনও কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেন যে, আগামী মাসে পারমাণবিক আলোচনা সমাধানে পৌঁছাতে পারে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই গাজা প্রদেশে ইসরাইল-হামাস সংঘাতের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তাই, কোনো নতুন সামরিক আক্রমণ বা উত্তেজনা আরও বড় দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
বর্তমানে আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার পরিচালিত যুদ্ধজাহাজগুলি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে অবস্থান করছে। জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরী যুক্ত হলে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ দ্বিগুণ করবে।
