মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা: মার্কিন বাহিনী দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত করছে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আশঙ্কায় মার্কিন দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনীর দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে বর্তমানে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে এবং উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইসরায়েলের যোগদানেরও শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য আরেকটি বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ও পেন্টাগনের প্রস্তুতি

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করেছেন। তিনি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন, যার শিরোনাম ছিল 'মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত করছে পেন্টাগন'। ট্রাম্প এই পোস্টে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, এটি মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয় যে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য একটি বিমানবাহী রণতরিকে প্রস্তুত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। এই রণতরিটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে, যা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক ও ট্রাম্পের অবস্থান

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃঢ় নীতি গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট লিখে বলেন, 'চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আমি শুধু ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব, নাকি সম্ভব নয়; তা যাচাই করতে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছি।' এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন একদিকে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখা বা যুদ্ধ এড়ানো একটি জটিল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুতির খবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং ভবিষ্যৎ কী দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।