কানাডার স্কুলে বন্দুক হামলায় ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে একটি স্কুলে সংঘটিত বন্দুক হামলায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। জেসি ভ্যান রুটসেলার নামের এই হামলাকারী স্কুলে হামলা চালানোর আগে নিজ বাড়িতে তাঁর মা ও সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। মোট ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো কানাডা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রিজে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। জেসি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং একাধিকবার পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসা নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, জেসি প্রথমে নিজ বাড়িতে মা ও সৎভাইকে হত্যা করার পর তাঁর সাবেক স্কুলে গিয়ে হামলা চালান। স্কুলে একজন নারী শিক্ষক এবং ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিক্ষার্থী তাঁর গুলিতে নিহত হন। হামলা শেষে জেসি নিজেও আত্মহত্যা করেন, যা মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯-এ নিয়ে যায়।
দেশজুড়ে শোক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই নৃশংস ঘটনায় কানাডা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাঁর পূর্বনির্ধারিত ইউরোপ সফর স্থগিত করে নিহতদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, 'টাম্বলার রিজের এই ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমরা এই শোক কাটিয়ে উঠব এবং এ থেকে শিক্ষা নেব।' এই হত্যাকাণ্ড কানাডায় স্কুলে বন্দুক হামলার বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ও বন্দুক আইন নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
তদন্ত ও আইনি প্রেক্ষাপট
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি লম্বা বন্দুক এবং একটি পরিবর্তিত হ্যান্ডগান উদ্ধার করেছেন। জেসির আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও সেটির মেয়াদ গত বছর শেষ হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে একবার পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে অস্ত্র জব্দ করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছিল। স্কুলটিতে একসময় পড়াশোনা করলেও চার বছর আগে জেসি সেখান থেকে ঝরে পড়েছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আহতদের অবস্থা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
হামলায় আহত কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক রয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। কানাডায় সাধারণত স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল হলেও, এই ঘটনা ২০২০ সালে নোভা স্কটিয়ায় সংঘটিত হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনা কানাডার সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ট্র্যাজেডি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
