গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ফোরামে যোগ দিল ইসরায়েল
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার প্রশাসন পরিচালনা ও পুনর্গঠন তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গঠিত ফোরাম বোর্ড অব পিসে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগ দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।
নেতানিয়াহুর ঘোষণা ও বৈঠকের বিস্তারিত
পোস্টে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লিখেছেন, 'ওয়াশিয়টনে ব্লেয়ার হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেখানে আমি বোর্ড অব পিসে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্তি করা বিষয়ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। তারপর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের যে অটুট মিত্রতা— তাকে আরও শক্তিশালী করতে আমি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়েই প্রস্তুত।'
এই ঘোষণার মাধ্যমে ইসরায়েল গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা পালনের সুযোগ পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার পটভূমি
উল্লেখ্য, গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার জন্য ইসরায়েল সরাসরি দায়ী। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এই অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন, পুনর্গঠন ফোরামে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ গাজার ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে, যদিও এটি হামাস ও অন্যান্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
