স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের দুর্নীতিতে শীর্ষ পেশা দুটি হলো রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র। সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুর্নীতির শীর্ষ পেশা
রুমিন ফারহানা বলেন, 'এখানে ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমি প্রতীকী হিসেবে ৫০০ টাকা হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গুগলে সার্চ করে দেখলাম, বাংলাদেশের দুর্নীতিতে শীর্ষ পেশা দুটি কী? এক নম্বরে রাজনীতিবিদ, দুই নম্বরে আমলা। কোনও রাজনীতিবিদ যখন পেশা হিসেবে রাজনীতি লেখেন, আমি অবাক হই। রাজনীতি করে পয়সা উৎপাদন হয়, এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতো দেশেই সম্ভব, যে দেশ ২০০৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল।'
অতীতের দুর্নীতির উদাহরণ
তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিগত সরকারের আমলে ছাগলকাণ্ড, বালিশ দুর্নীতি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভয়াবহ দুর্নীতি দেখেছি। দেখেছি, একজন পিয়ন কী করে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় এবং হেলিকপ্টার ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন। ব্যাংক থেকে লক্ষ-কোটি টাকার লোপাট, ভুয়া কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি, ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং, হুন্ডি, ভুয়া রপ্তানি বিল মারফত অর্থ পাচার, মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি, নিয়োগ-পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম, স্বাস্থ্য খাতে মিঠু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য—সবই দেখেছি।'
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা
রুমিন ফারহানা বলেন, '৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশের কথা বলার সময় আমাদের আশা ছিল, দুদককে নখদন্তহীন বাঘ থেকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করব। অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রস্তাব করেছিল। একশোর বেশি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়েছে, কিন্তু দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ আইন করা হয়নি। সরকারের নিয়ত কী, তা দুদককে নখদন্তহীন রাখার উদাহরণে স্পষ্ট। সরকার দুর্নীতি দমনে কতটা আন্তরিক, তা বোঝা যায়।'
রাজনীতিবিদ ও আমলাদের স্বার্থ
তিনি বলেন, 'দুদককে শক্তিশালী করলে সরকারগুলো কেন ভয় পায়, আমরা বুঝি। সরকারে সরাসরি যুক্ত থাকে রাজনীতিবিদরা, পরোক্ষভাবে আমলারা। দুদক শক্তিশালী হলে তা রাজনীতিবিদ ও আমলাদের জন্য ভালো খবর নয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকার যেমন ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে দুদককে শক্তিশালী করেনি, তেমনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারও দুদককে শক্তিশালী করতে আন্তরিক নয়। এমনকি দুদকের তিন সদস্য কে হবেন, তা সরকার ঠিক করে দেবে। অধ্যাদেশে বলা ছিল, প্রেসিডেন্ট চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, বাকি সদস্যদের নির্বাচন করবেন স্পিকার—সেটাও দলের হাতে থাকত। কিন্তু সেই সাহসও সরকার দেখাতে পারেনি।'



