এশিয়ার জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইরানি তিন তেলবাহী ট্যাংকার আটক
মার্কিন সামরিক বাহিনী এশিয়ার জলসীমায় ইরানি পতাকাবাহী অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে এই জাহাজগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আরও অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে দুই মার্কিন ও ভারতীয় শিপিং সূত্র এবং দুই পশ্চিমা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে তথ্য দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
আটক হওয়া ট্যাংকারগুলোর বিস্তারিত বিবরণ
রয়টার্স জানায়, মালয়েশিয়ার উপকূলে সর্বশেষ দেখা ইরানি পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার 'ডিপ সি' আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। একইভাবে ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার ছোট ট্যাংকার 'সেভিন'ও আটক করা হয়েছে, যা ৬৫ শতাংশ তেলভর্তি ছিল। তৃতীয় ট্যাংকার 'ডোরেনা' সম্পূর্ণভাবে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দক্ষিণ ভারতের উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নজরদারি ও অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, 'ডোরেনা' ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ারের নজরদারিতে রয়েছে, কারণ এটি অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল। সেন্টকম আরও জানায়, ভারত উপকূলের কাছে থাকা 'ডেরিয়া' নামের আরেকটি ইরানি ট্যাংকারও যুক্তরাষ্ট্র আটক করে।
অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরানি জাহাজ ফেরত
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরানের বন্দরগামী বা বন্দর ত্যাগ করা অন্তত ২৯টি জাহাজকে ফিরিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সব আটক হওয়া জাহাজের তালিকা প্রকাশ করেনি মার্কিন সেনাবাহিনী। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন-ইরান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



