ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযান: তেলবাহী জাহাজ জব্দ
ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
পেন্টাগনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় গত রাতে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতা ছাড়াই জাহাজটিতে তল্লাশি সম্পন্ন হয়েছে, যা অভিযানের সফলতা নির্দেশ করে।
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন সেনারা কমলা রঙের বড় একটি জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে অবতরণ করছে। তবে অভিযানটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা অপারেশনের গোপনীয়তা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের ভূমিকা
উল্লেখ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের দায়িত্বের আওতায় প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে, যা পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত। পেন্টাগন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কোনো জাহাজ নিরাপদ আশ্রয় পাবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জব্দ করা জাহাজটি ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, যা তেহরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে, যা ওয়াশিংটনের কঠোর নীতিরই ধারাবাহিকতা।
এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অভিযান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষাপট
এর আগে, গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজও জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কতা উপেক্ষা করলে মার্কিন বাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে জাহাজটির চলাচল অচল হয়ে পড়ে। এই ঘটনাগুলো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান তৎপরতারই স্বাক্ষর বহন করছে।



