সংসদ কেনাকাটায় হরিলুট: স্পিকার গঠন করলেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি
সংসদ কেনাকাটায় হরিলুট: স্পিকার গঠন করলেন তদন্ত কমিটি

সংসদ কেনাকাটায় হরিলুট: স্পিকার গঠন করলেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি

জাতীয় সংসদের কেনাকাটায় হরিলুটের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক মো. মনির হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কমিটি গঠনের পটভূমি

গত ১৯ এপ্রিলে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংসদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। এই প্রতিবেদনে সংসদে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা

এই পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ
  • ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম
  • চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী
  • কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত

কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী পদক্ষেপ ও অভিযোগের বিবরণ

এর আগে রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার কোনও বিল পরিশোধ করা হবে না বলে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, সংসদে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. মাত্র ৪ হাজার টাকার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। দামি ব্র্যান্ডের নাম লেখা থাকলেও দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের ব্যাগ, এবং লোগো লাগানো হয়েছে আলাদাভাবে।
  2. একটি ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডারের দাম নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা।
  3. ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ডিজিটাল স্টিল এসএলআর ক্যামেরার বডির দাম নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরনের চারটি ক্যামেরার বডি দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়।

সব মিলিয়ে ছবি তোলার জন্য যে সেট কেনা হয়েছে, তার জন্য সরকারের কাছ থেকে দাম নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা। প্রকৃতপক্ষে এসব আইটেমের দাম সব মিলিয়ে ২০ লাখের কম। অবিশ্বাস্য হলেও এমন হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে জাতীয় সংসদে, যেখানে প্রায় প্রতিদিন দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়।

তদন্তের গুরুত্ব ও প্রত্যাশা

এই তদন্ত কমিটি গঠন সংসদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত সংসদীয় কার্যক্রমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান প্রতিফলিত করে। আশা করা হচ্ছে, কমিটি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর সুপারিশ প্রদান করবে।