ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি না হলে যুদ্ধ, ইরানের বন্দরে অবরোধ অব্যাহত
ট্রাম্প: চুক্তি না হলে যুদ্ধ, ইরানে অবরোধ অব্যাহত

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি না হলে যুদ্ধ, ইরানের বন্দরে অবরোধ অব্যাহত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি ইরানি বন্দরের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলবেন না। তিনি সতর্ক করেছেন যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হতে পারে এবং চুক্তি না হলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে’ এবং নৌ অবরোধ ‘ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে’।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ, অনিশ্চয়তা ঘনীভূত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকলেও দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। পাকিস্তানের রাজধানীতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটনেই রয়েছেন। ইরান বলেছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মার্কিন বাহিনীর জাহাজ আটক ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ২৭টি জাহাজকে ঘুরে যেতে অথবা ইরানের কোনো বন্দরে ফেরত পাঠিয়েছে। গত রোববার ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেদ করার চেষ্টা করলে মার্কিন সেনারা তা আটক করে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম ইরানের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরান এটিকে ‘জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ইরান প্রণালি খুলে দিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প নৌ অবরোধ না তোলায় দ্রুতই সেটি আবার বন্ধ করে দেয় তেহরান।

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

টেলিফোনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব একটা দেখছি না।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, একটি বাজে চুক্তিতে সই করার জন্য তিনি কোনো তাড়াহুড়া করবেন না এবং চুক্তি না হলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তবে ট্রাম্পের অবস্থানে এর আগে বেশ কয়েকবার অসংলগ্নতা দেখা গেছে, গত সপ্তাহে তিনি একই প্রশ্নে তিনবার ভিন্ন উত্তর দিয়েছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গতকাল সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে তেহরানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন করে আগ্রাসন শুরু করতে চায়, তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সে অনুযায়ী জবাব দেবে।’ এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।