লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন: ইরানকে এড়িয়ে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চাই
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার দেশ ইসরাইলের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাকে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংঘাত থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা রাখতে চায়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান, যা লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক বৈঠকের প্রেক্ষাপট
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দীর্ঘ ৪০ বছর পর লেবানন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট আউন তার মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে লেবাননের জন্য একটি কঠিন সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশটির সামনে এখন দুটি মাত্র পথ খোলা আছে—হয় যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় মেনে নিয়ে সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া, অথবা আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই স্থিতিশীলতায় পৌঁছানো।
আউনের লক্ষ্য ও ইরানের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট আউন দ্বিতীয় পথটিকেই বেছে নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো, বৈরী আচরণ বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করা। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা চলছে। তেহরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আউনের সরকার, কিন্তু ইরান শর্ত দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও চলমান আলোচনা
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আউন জানান, ট্রাম্প নিজে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে ইসরাইলের সাথে মধ্যস্থতা করেছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের আলোচনা চললেও পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রদূত সাইমন কারামের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেবে।
চ্যালেঞ্জ ও আশাবাদ
যদিও এই আলোচনার মাধ্যমে শান্তির আশা দেখা দিচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এখনো কাটেনি। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের অবস্থান সরাবে না। তবে, প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমেই তিনি শেষ পর্যন্ত লেবাননকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।



