লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীর ওপর তারা একদিনে ৩৭টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। গোষ্ঠীটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সেনা, সামরিক যান ও প্রকৌশল সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে জাওতার আল-শারকিয়াহ ও ওদাইসেহ শহর, পাশাপাশি নাকৌরা, দেবেল ও রব আল-থালাথিন এলাকার আশপাশে এসব হামলা চালানো হয়।
হামলার বিস্তারিত বর্ণনা
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, অভিযানের মধ্যে জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় কাছাকাছি অবস্থান থেকে সংঘর্ষ, একাধিক মেরকাভা ট্যাংক ও আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্ল্যাটফর্ম লক্ষ্য করে হামলা এবং গ্যালিলি অঞ্চলে ইসরাইলি অবস্থানে ড্রোন হামলাও করা হয়েছে। এই অভিযানগুলো দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে পরিচালিত হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলি বিমান হামলায় হতাহত
এর আগে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ হামলায় আরও প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, টায়ার ও মারজাইউন জেলার কয়েকটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল। বুর্জ আল-শেমালি, হাব্বুশ, মারাকেহ, সেলা ও কাওতারিয়াত আল-রুজসহ একাধিক শহর ও গ্রাম লক্ষ্য করে এসব হামলা হয়।
আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই হামলার ঘটনা ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর লেবাননেও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপ ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।



