পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করলেন ৩১ নাবিক
পারস্য উপসাগরে আটকে জাহাজে ঈদুল আজহার নামাজ ৩১ নাবিকের

পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নেভিগেশন ব্রিজে আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন জাহাজটির ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় তিন মাস ধরে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও অনুমতি মেলেনি

দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এখনো বাংলাদেশি জাহাজটি চলাচলের অনুমতি পায়নি। যদিও এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের অনেক জাহাজ ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল শুরু করেছে।

নাবিকদের মানসিক চাপ বেড়েছে

‘বাংলার জয়যাত্রা’র মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় নাবিকদের মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই ঈদের দিনটিকে যতটা সম্ভব আনন্দঘন করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের নামাজ শেষে সবাই একসঙ্গে নাশতা করেছি। দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল পোলাও, উটের মাংস ও গরুর মাংস।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনা

২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় বাংলার জয়যাত্রা। পরদিনই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে জাহাজটি পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে পড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জাহাজটিকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় বাংলাদেশ সরকার। জাহাজটিকে নিয়ে কয়েক দফা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাও করেন নাবিকেরা। তবে ইরানের অনুমতি না মেলায় এখনো পারস্য উপসাগরেই অবস্থান করছে জাহাজটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনিশ্চয়তা কাটছে না

কবে নাগাদ জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কবে নাগাদ হরমুজ পার হতে পারব, এখনো জানি না।’ গত মার্চে ঈদুল ফিতরও জাহাজেই উদ্‌যাপন করেছিলেন নাবিকেরা। তখন তাঁদের আশা ছিল, হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় এবারও জাহাজেই ঈদ উদ্‌যাপন করতে হলো তাঁদের।