ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উভয়সংকটে পাকিস্তান
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উভয়সংকটে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনও শান্তি চুক্তির আগে পাকিস্তানসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বেশ উভয়সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ট্রাম্পের এই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির প্রস্তাব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান যে দুই দেশের আদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি পাসপোর্ট নীতি নিয়ে বক্তব্য

প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি খাজা আসিফ পাকিস্তানের বর্তমান পাসপোর্ট নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ট্রাভেল ডকুমেন্টে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মূলত এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে পাকিস্তানই বিশ্বের একমাত্র দেশ যার পাসপোর্টে স্পষ্টাক্ষরে ইসরায়েলকে বৈধ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিটি পাকিস্তানি পাসপোর্টে একটি লাইন লেখা থাকে: ‘এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ’। পাকিস্তান যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে এই নীতি পরিবর্তন করতে হবে। কারণ এই চুক্তির অধীনে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অর্থই হলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া, সেখানে দূতাবাস বা কনস্যুলেট খোলা এবং বাণিজ্য, ভ্রমণ ও ভিসা চুক্তি করা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কঠোর প্রতিক্রিয়া

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাবকে ‘মৌলিক আদর্শের সংঘাত’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, যাদের কথা একটি দিনের জন্যও বিশ্বাস করা যায় না, আপনি তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবেন? তিনি বলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান যখন ট্রাম্পের ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেয়, তখনও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হওয়ার বিষয়টি ‘স্পষ্টভাবে নাকচ’ করে দিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের শর্ত ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

ট্রাম্প মূলত শর্ত দিয়েছেন যে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনও চুক্তির আগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছয়টি দেশকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঘোষিত এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো এমন একটি চুক্তি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ

অবশ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও স্বাধীনতার পর পাসপোর্টে একই নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল ব্যতীত) ধারাটি বাদ দেয়, যদিও কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন যে ইসরায়েল সংক্রান্ত নীতি অপরিবর্তিতই রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার পূর্বের নীতি আবার ফিরিয়ে এনে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ ধারাটি যুক্ত করছে।

সূত্র: উইয়ন নিউজ