ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভ অঞ্চলে অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ ব্যবহার করেছে মস্কো। ভয়াবহ এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য
যুক্তরাষ্ট্রের বিবরণ অনুযায়ী, একাধিক সাধারণ বা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ‘ওরেশনিক’ একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এর গতি ও গতিপথের কারণে ইউক্রেনের কাছে থাকা বর্তমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করলো।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্য ইউক্রেনের বিলা তাসের্কভা শহরের কাছে এসে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ওরা (রাশিয়া) সত্যিই পাগল হয়ে গেছে। রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ড যাতে শাস্তিহীনভাবে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা জানিয়েছেন, নিক্ষেপ করা এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোনও সক্রিয় ওয়ারহেড ছিল না, এটি একটি ডামি ওয়ারহেড বহন করছিল।
বৃহত্তর হামলার অংশ
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনে একসঙ্গে ৬০০টি ড্রোন এবং ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৬০৪টি অস্ত্র ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিলহা এটিকে রাজধানীর ওপর চালানো ‘অন্যতম বৃহত্তম’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। কিয়েভ সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং এই রুশ হামলার মূল লক্ষ্যবস্তুই ছিল কিয়েভ।’
পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপট
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের একটি অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলার পরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পাল্টা ও প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ দেন। পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে দাবি করেন, শুক্রবার পূর্ব লুহানস্কের রুশ-অধিকৃত শহর স্টারোবিলস্কের একটি কলেজ ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে।
ড্রোন হামলায় হতাহত
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস শনিবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের ওই ড্রোন হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
রবিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওরেশনিক ও অন্যান্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই ব্যবহার মূলত ‘রুশ ভূখণ্ডের ভেতরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন



