ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপ দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে বড় ধরনের নীতিগত মতপার্থক্যকে আবারও সামনে এনেছে। তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।
পটভূমি: ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ ও হামলা বাতিল
এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রবিবারের ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ওপর নতুন করে সুনির্দিষ্ট কিছু হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’। তবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান মিত্রদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প পরবর্তীতে মঙ্গলবার নির্ধারিত ওই হামলা বাতিলের ঘোষণা দেন।
কূটনৈতিক মধ্যস্থতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলা বাতিলের পর থেকে এই দেশগুলো হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কূটনৈতিক আলোচনার নতুন কাঠামো তৈরির জন্য নিবিড় মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উত্তপ্ত ফোনালাপের বিবরণ
মঙ্গলবারের ওই এক ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, হামলা স্থগিত করা একটি বড় ভুল ছিল। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোরালো তাগিদ দেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলি একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, দুই নেতার মধ্যকার মতভেদ স্পষ্ট ছিল। ট্রাম্প দেখতে চাচ্ছেন কোনও চুক্তি করা সম্ভব কিনা, কিন্তু নেতানিয়াহু অন্য কিছু আশা করছিলেন।
ট্রাম্পের অবস্থান
বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের বিষয়ে একদম শেষ পর্যায়ে আছি। দেখা যাক কী হয়। হয় আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হবে, না হলে আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা একটু অপ্রীতিকর হবে। তবে আশা করি তেমন কিছু ঘটবে না।” ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক পথেই হাঁটছেন। তার মতে, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি এখন একদম ‘শেষের দিকের’ পর্যায়ে রয়েছে এবং আলোচনাকে আরও কয়েকটা দিন সময় দিলে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।
নেতানিয়াহুর ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ
অন্যদিকে তেহরানের বিরুদ্ধে সবসময়ই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানের পক্ষে থাকা নেতানিয়াহু এই বিলম্বের কারণে দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। তিনি মনে করছেন, এই বিলম্ব কেবল ইরানের অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করছে। অন্য একটি ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যে হতাশা আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন করে হামলার জন্য জোরালো চাপ দিচ্ছেন এবং ইরানের পক্ষ থেকে চালানো কূটনৈতিক বিলম্বের কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মতপার্থক্য নতুন নয়
ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে এ ধরনের মতপার্থক্য অবশ্য এবারই প্রথম নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগেও স্বীকার করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে এই দুই মিত্র দেশের লক্ষ্য সবসময় এক থাকে না। বুধবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প পরিস্থিতির ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করে বলেন, “আমি যা চাইবো, সে (নেতানিয়াহু) তা-ই করবে।”



