গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও স্থল হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। শনিবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে রোববার (২২ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত চলা এই হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
হামলার বিস্তারিত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাসের অবস্থান ও কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৪ শিশু ও ৯ নারী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ। বেসামরিক মানুষ প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে।” আরব লীগও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করলেও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ইরান ও তুরস্ক ইসরায়েলের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।
মানবিক সংকট
গাজায় ইতিমধ্যেই তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালগুলো আহতদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধসের মুখে।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ অবস্থান করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত খাবার ও পানির অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।



