ঢাকা গতকাল আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এই ঘটনা শুধু ক্ষুব্ধ করাই নয়, বরং অগ্রহণযোগ্য। এখন প্রশ্ন আর কেন এটি ঘটছে তা নয়, বরং কেন আমরা এখনও এটি সহ্য করে যাচ্ছি।
বছরের পর বছর বিষাক্ত বাতাস
প্রতি বছর রাজধানীর বাসিন্দারা বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন, ফলে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং আয়ুষ্কাল সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণ আমাদের দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘাতক, এবং আমরা এখনও এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছি, যা সত্যিই হতবাক করার মতো।
আমাদের প্রতিক্রিয়াকে খণ্ডিত বলা অত্যুক্তি হবে না। এটি প্রতিক্রিয়াশীল এবং নিতান্তই অপর্যাপ্ত।
কারণগুলো জানা সত্ত্বেও উদাসীনতা
এখন পর্যন্ত কারণগুলো সুবিদিত: অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ধুলো, যানবাহন নিঃসরণ বিশেষ করে পুরনো ও অযোগ্য যানবাহন থেকে, এবং পরিবেশ আইনের দুর্বল প্রয়োগ। এগুলোর কোনোটিই অজানা নয়।
দীর্ঘদিন ধরে যা অনুপস্থিত তা হলো রাজনৈতিক ইচ্ছা ও প্রতিষ্ঠানগত জবাবদিহিতা। সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের পরিবর্তে আমরা দেখছি প্রসাধনী ব্যবস্থা, মাঝে মাঝে অভিযান এবং অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। এদিকে নাগরিকরা বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিয়ে চলেছে।
জনস্বাস্থ্য সংকট ও নীতি উদাসীনতা
বায়ুদূষণ দীর্ঘদিন ধরে একটি জনস্বাস্থ্য সংকট। দূষিত বাতাসের কারণে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে, যেখানে শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও এই দুর্ভোগ নীতিনির্ধারণী স্তরে জরুরি অবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে না।
আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলি, কিন্তু তা অসম্ভব যখন রাজধানীর বাতাস অশ্বাসযোগ্য। আমাদের কাছে সমস্যা সমাধানের উপায় রয়েছে; ইটভাটার জন্য পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বিদ্যমান, আধুনিক গণপরিবহনও রয়েছে। নির্মাণকাজও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এগুলো কখনোই অসম্ভব কাজ ছিল না। বরং এটি একটি পছন্দ—পদক্ষেপ নেওয়া বা উপেক্ষা করা। আমরা অনেক দিন ধরে উপেক্ষা করে এসেছি, এবং এখন আমাদের পদক্ষেপ নিতেই হবে।



