পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শাহিদুদ্দিন চৌধুরী এনী রবিবার বলেছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উপকূলীয় জারা-প্রতিরোধী অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, 'টেকসই ও নিরাপদ উপকূলীয় অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি। উন্নত নির্মাণ সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব প্রকৌশল ও জলবায়ু-সহনশীল নকশা ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকাকে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা জরুরি।'
মন্ত্রী রাজধানীর প্রকৌশলী ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটোরিয়ামে 'বাংলাদেশে জারা-প্রতিরোধী উপকূলীয় অবকাঠামো' শীর্ষক সেমিনার ও 'প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (দ্বিতীয় সংস্করণ) এবং সনদ প্রদান' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব নানা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কৃষিজমি কমছে, জেলের সংখ্যা বাড়ছে, উপকূলীয় সম্পদের অতিরিক্ত শোষণ, পানি দূষণ ও ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের মতো সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় ভাঙন ত্বরান্বিত করছে এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে ব্যাপক ফসলহানি ঘটছে, পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র দূষিত হচ্ছে এবং সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
উপকূলীয় ভাঙন মোকাবিলায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার তার খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করছে।
'আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় খনন বা পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া, ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে, যা উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বাফার জোন তৈরি করবে,' তিনি বলেন।
মন্ত্রী উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি 'উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা বিধিমালা' কাঠামো ও 'বিশেষ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা' প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি এসব এলাকায় কৃষিজমি রক্ষায় আইন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 'অন্ততপক্ষে, উপকূলীয় এলাকার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, যা সেখানে বসবাসকারী মানুষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করে।'
আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খোকন।



