রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাতাসে ক্ষতিকর কণার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
দূষণের বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকার বায়ুমানে পিএম২.৫ কণার উপস্থিতি গড়ে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারের বেশি, যা ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত সীমা ২৫ মাইক্রোগ্রামের ছয় গুণ। শীতকালে এই মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষিত বাতাসে হাঁপানি ও অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ছে।
দূষণের উৎস
ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ ও শিল্পকারখানা। এছাড়া শীতকালে উত্তর দিক থেকে আসা ধুলাবালিও দূষণ বাড়ায়।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা দূষণ কমাতে ইটভাটা বন্ধ, যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সবুজায়ন বাড়ানো ও গণপরিবহন উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যে ইটভাটা স্থানান্তর ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। নাগরিকদেরও মাস্ক ব্যবহার ও বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



