ভারী বৃষ্টিতে চার নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, বন্যা শঙ্কা
ভারী বৃষ্টিতে চার নদীর পানি বিপদসীমার ওপর

দেশের মধ্যে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে চার নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে হাওর এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত এলাকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা

তারা নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে জানায়, নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদী জারিয়া জাজইল পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭৩, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টের পানি ৬৮ ও আটপাড়া পয়েন্টের পানি ১৬ এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী সুভাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টের পানি ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে নদীগুলো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগামী তিন দিনের পূর্বাভাস

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং সুরমা নদীর পানি সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া শঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ভূগাই-কংস ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে দ্বিতীয় দিনে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, ফলে নেত্রকোনার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীগুলোর পানি আগামী এক দিন কমতে পারে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি দ্বিতীয় দিনে এবং মনু ও খোয়াই নদীগুলোর পানি তৃতীয় দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে। ফলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার। এছাড়া ৫০ এর ওপরে হাতিয়ায় ১১২, নারায়ণগঞ্জে ১০৪, বাঘাবাড়িতে ৮৫, টাঙ্গাইলে ৭৫, পটুয়াখালিতে ৭২, কক্সবাজারে ৭১, বরিশালে ৭০, আরিচা ও ঢাকায় ৬৫, চাঁদপুরে ৬৪, খুলনায় ৬৩, সন্দ্বীপে ৫৮, কুমিল্লায় ৫৬, মোংলায় ৫৪, বগুড়ায় ৫২, রামগতিতে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা

আবহাওয়া অধিদফতরের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় আজ দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে।

ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে।