টানা তাপপ্রবাহের কারণে যখন বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিং দুটোই বাড়ছিল, ঠিক তখনই ঝড়-বৃষ্টি পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও অনেকাংশে কমেছে, ফলে লোডশেডিং প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
চাহিদা ও লোডশেডিংয়ের চিত্র
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট, বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ৫১১ মেগাওয়াট। এরপর এদিন বেলা ৩টায় চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে লোডশেডিং হয় ৭৫৫ মেগাওয়াট, রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ১১ হাজার ২৯৪, বিপরীতে লোডশেডিং ছিল না একেবারেই।
এদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ৩টায় চাহিদা নেমে আসে ১১ হাজার ৩১৭ মেগাওয়াটে, আর সরবরাহ করা হয় ১ হাজার ২৯৪ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং কমে দাঁড়ায় ২৩ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ একদিনেই চাহিদা কমেছে ২ হাজার ৪৭৯ মেগাওয়াট। সোমবার যে হারে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, সে হিসাবে আজও সন্ধ্যায় লোডশেডিং শূন্যে নামতে পারে বলে জানিয়েছে পিডিবি।
বৃষ্টির প্রভাব
এই পরিবর্তনের মূল কারণ বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। সর্বোচ্চ লোডশেডিং আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর রবিবার হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা কমে যায়। ঢাকায় কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, চলতি সপ্তাহজুড়েই ঝড়-বৃষ্টি থাকতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়— রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
মঙ্গলবারের (২৮ এপ্রিল) পূর্বাভাসে বলা হয়— রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
স্বস্তি সাময়িক
তবে বৃষ্টির কারণে স্বস্তি এলেও সব জায়গায় পরিস্থিতি এক রকম ছিল না। ঝড়ো হাওয়ায় গাছ ভেঙে পড়া বা বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় আধা ঘণ্টা থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হচ্ছে।
পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, এসি ও ফ্যানের ব্যবহার কমলেই এই অতিরিক্ত চাপ দ্রুত নেমে আসে। এবারও তাই হয়েছে। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। তাপমাত্রা আবার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়বে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতিও আবার খারাপ হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।



