রাজধানী ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি দূষণকারী কণা বাতাসে মিশে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় শ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
দূষণের উৎস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ ও শিল্পকারখানাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস থেকে নির্গত সূক্ষ্ম কণা (পিএম ২.৫) সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কণাগুলো ফুসফুসের কোষ ধ্বংস করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ব্যাহত করে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও হৃদরোগের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই দূষণ আরও ক্ষতিকর। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়
পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণ কমাতে ইটভাটা বন্ধ করা, যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, এবং নির্মাণকাজে ধুলা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সবুজায়ন বাড়িয়ে বাতাসের গুণমান উন্নত করা সম্ভব। সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী দিনে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



