শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানটি পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি দল। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জায়গাটিতে গ্যাসের কোনো উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে দলটি।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় ও বাপেক্স সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে তাপমাত্রা না কমলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পদক্ষেপ
খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে তারা ওই এলাকায় মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে এরপরেও সমাধান না মিললে খবর দেওয়া হয় বাপেক্সকে।
বাপেক্সের পরিদর্শন ও ফলাফল
সোমবার দুপুরে বাপেক্সের একটি দল প্রাথমিক নিরীক্ষা শেষে স্থানটিতে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন। বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিশিখা পরীক্ষাসহ বেশ কিছু নিরীক্ষা করেছি। তবে এই জায়গাটিতে কোনো গ্যাসের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সম্ভাব্য কারণ
ইমামুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি, এই জায়গাটিতে একটি বৈদ্যুতিক সংযোগের স্পার্ক ছিলো, সেটি থেকে এখানে তাপ উৎপন্ন হলেও হতে পারে। পাশাপাশি এখানে যদি কন্সট্রাকশনের রঙের বর্জ্য বা কেমিক্যাল ফেলে সেখান থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হতে পারে। এমনকি এটা যেহেতু পুরাতন হাসপাতালের স্থান, সেক্ষেত্রে ময়লা আবর্জনা থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে তাপ উৎপন্ন হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বাপেক্সের দল ঘটনাস্থলের চার ফুট গভীর থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছে। ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে বলে জানিয়েছেন ইমামুল ইসলাম।



