বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত পাঁচ অর্থবছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সোমবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল নীতির কারণেই এই ঘাটতি বেড়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতির কারণ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামালের উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ধীর রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।
পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান
মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১-২২ সালে তীব্রভাবে বেড়ে ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর ২০২২-২৩ সালে কিছুটা কমে ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ সালে আরও কমে ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার হয়।
একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫.৩৬ বিলিয়ন, ৬০.৯৭ বিলিয়ন, ৫৩.৯২ বিলিয়ন, ৫১.১১ বিলিয়ন এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৬১.৬০ বিলিয়ন, ৮৯.১০ বিলিয়ন, ৭৮.২৯ বিলিয়ন, ৭২.৬১ বিলিয়ন এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার রপ্তানি কর্মক্ষমতা জোরদারের মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশ ও অঞ্চলে পণ্য রপ্তানি করলেও মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একক রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতেও তৈরি পোশাকের মতো প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
আংশিক রপ্তানিমুখী আটটি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য—ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অঞ্চলভিত্তিক রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জাপান ও থাইল্যান্ডের সফল মডেল অনুসরণ করে ‘এক জেলা, এক পণ্য’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ৬৪ জেলা থেকে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য তৃতীয় দফা আলোচনা আগস্ট ২০২৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।



