বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘির কুমিরটিকে আটক করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে। এটিকে আপাতত খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।
কুমির আটকের বিস্তারিত
বুধবার দুপুরে খুলনার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ডিএফও নির্মল পাল বলেন, ‘খাবার টোপ দিয়ে কুমিরটি আয়ত্বে এনে মুখে দড়ির ফাঁদ আটকে ধরা হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে ধরা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সেটিকে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে। কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল নেওয়া হচ্ছে না– এটা একরকম চূড়ান্ত। কিন্তু এটির অবস্থান কোথায় হবে তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত খুলনার রেসকিউ সেন্টারে রাখা হবে। তাই খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি।’
ঘটনার প্রেক্ষাপট
শিশু ফাতেমাকে (৭) টেনে নেওয়া এবং দিঘি থেকে মরদেহ উদ্ধার করার পর হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আসা দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘কুমিরটি ইতোমধ্যেই ধরা হয়েছে। সুন্দরবনের করমজলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এখন কক্সবাজারের দুলাহাজরা বা গাজীপুরের সাফারি পার্কে নেওয়া হতে পারে। বন্যপ্রাণী বিভাগ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি বলেন, ‘দিঘিতে কুমিরের ঐতিহ্য ধরে রাখার বিষয়টি ভাবনায় রয়েছে। দিঘিতেই খাঁচা পদ্ধতিতে রাখা সম্ভব কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনার পর জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বন বিভাগের তথ্য
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসে। তারা কুমিরটির অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ধরার কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। আপাতত কুমিরটিকে খুলনার রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হচ্ছে। পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে পাঠানো হবে।
ঘটনার সূত্রপাত
১ জুন রাত ৮টার দিকে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা আক্তার নামের শিশুটি কুমিরের হামলার শিকার হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।



